আকাশ এখন অনেকটাই ছন্নছাড়া। এই রোদ, তো এই মেঘ। কাগজে-কলমে আজই বর্ষার শুরু-আজ পহেলা আষাঢ়। পঞ্জিকার বর্ষা আজ শুরু হলেও বাস্তবে শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। তাই আকাশে মেঘ থাকাই স্বাভাবিক। তবু প্রকৃতিপ্রেমীরা আজ সকাল থেকেই প্রার্থনায় বসবেন-আজকের রাতের আকাশটা যেন অন্তত থাকে মেঘহীন। কারণ, আজ যে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। ২০১৮ সালের জানুয়ারির শেষ রাতের আগে এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না। শুধু চন্দ্রগ্রহণ বলে তো আর নয়, আছে আরো আকর্ষণ।
রূপালী সাদা চাঁদটা যে আজ হয়ে উঠতে পারে রক্তলাল। পরিচিত চাঁদের এমন রং কি আর কালেভদ্রে দেখা যায়?
পুরাণের বর্ণনায়-সমুদ্র মন্থনের সময় অসুর রাহু স্বর্গীয় অমৃতের কিছুটা পান করেছিল। কিন্তু ভেতরে নিতে পারেনি। গলা দিয়ে অমৃত ভেতরে যাওয়ার মুহূর্তেই এক কোপে রাহুর মাথা কেটে ফেলেছিলেন মোহিনী, বিষ্ণুর নারী অবতার। কিন্তু ওই কাটা মাথা অমর হয়ে রয়। রাহুর মাথাটা আবার সাপের মাথার মতো। আবার পুরো সাপও নাকি নয়, অনেকটা ড্রাগনের মতো। ঘুরে বেড়ায় রথে করে। সে রথ বহন করে আটটি কালো ঘোড়া। দেহহীন রাহু মাঝেমধ্যে চাঁদ-সূর্যকে গ্রাস করে, তখনই ঘটে চন্দ্র কিংবা সূর্যগ্রহণ। চাঁদ বা সূর্য গলায় ঢোকার মুহূর্তে শুরু হয় গ্রহণ, আর পেরিয়ে গেলেই গ্রহণ শেষ।
বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন আমরা জানি, রাহুর গ্রাস নয়, কক্ষপথ পরিক্রমায় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সমতলে এবং একই সরল রেখায় অবস্থান নেয়, তখনই ঘটে চন্দ্রগ্রহণ। এই ভারতবর্ষেই বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম রাহু-কেতুর ধারণা ভেঙে দেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট। তাও প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে।
বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার রাত ১১টা ২৪ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। দেখা যাবে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত। ২০০০ সালের পর এটাই হবে সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। আর নাটকীয় এ ঘটনার সময় চাঁদ অন্তত ১০০ মিনিট ধারণ করে থাকবে রক্তিম বরণ। দেশের সব জায়গাতেই এ দৃশ্য দেখা যাবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পাবে ভারত, পূর্ব আফ্রিকার অর্ধেক, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ মহাজাগতিক এ ঘটনা দেখতে পাবে না। কারণ সেখানে চাঁদ উঠার সময় হওয়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে যাবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে তখন থাকবে দিন।
চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের যে কিরণ মহাশূন্যের দিকে যায়, সেই কিরণের কারণে চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লাল, বাদামি বা কালো রং ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এবার চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হতে পারে রক্তলাল।
ঢাকায় বিভিন্ন সংগঠন চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ক্যাম্প বসবে ধানমণ্ডি ক্লাব খেলার মাঠে। আগ্রহী যে কেউই রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এখানে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করবে বিজ্ঞানবিষয়ক সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র। এ ক্যাম্প আজ বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে সারা রাত চলবে। বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটাই হবে এ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। বছরের দ্বিতীয় গ্রহণটি হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। আগামীকাল হতে যাওয়া বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এ রকম ১০০ মিনিট স্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই আবার এ রকম গ্রহণ দেখা যাবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণে অনুসন্ধিৎসু চক্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার প্রাঙ্গণে খোলা হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প। দর্শনার্থীদের জন্য উমুক্ত এ ক্যাম্প বুধবার বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সারা রাত চলবে। ক্যাম্পটিতে অপটিক্যাল টেলিস্কোপ ছাড়াও রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া দেশের আরো ২০টি স্থানে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প খোলা হচ্ছে।
অনুসন্ধিৎসু চক্র বাংলাদেশের এই চন্দ্রগ্রহণের ভিডিও, ছবি ও তথ্য সরাসরি এই http://www.astronomylive.com ঠিকানারওয়েবসাইটে প্রচার করবে।
রূপালী সাদা চাঁদটা যে আজ হয়ে উঠতে পারে রক্তলাল। পরিচিত চাঁদের এমন রং কি আর কালেভদ্রে দেখা যায়?
পুরাণের বর্ণনায়-সমুদ্র মন্থনের সময় অসুর রাহু স্বর্গীয় অমৃতের কিছুটা পান করেছিল। কিন্তু ভেতরে নিতে পারেনি। গলা দিয়ে অমৃত ভেতরে যাওয়ার মুহূর্তেই এক কোপে রাহুর মাথা কেটে ফেলেছিলেন মোহিনী, বিষ্ণুর নারী অবতার। কিন্তু ওই কাটা মাথা অমর হয়ে রয়। রাহুর মাথাটা আবার সাপের মাথার মতো। আবার পুরো সাপও নাকি নয়, অনেকটা ড্রাগনের মতো। ঘুরে বেড়ায় রথে করে। সে রথ বহন করে আটটি কালো ঘোড়া। দেহহীন রাহু মাঝেমধ্যে চাঁদ-সূর্যকে গ্রাস করে, তখনই ঘটে চন্দ্র কিংবা সূর্যগ্রহণ। চাঁদ বা সূর্য গলায় ঢোকার মুহূর্তে শুরু হয় গ্রহণ, আর পেরিয়ে গেলেই গ্রহণ শেষ।
বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন আমরা জানি, রাহুর গ্রাস নয়, কক্ষপথ পরিক্রমায় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সমতলে এবং একই সরল রেখায় অবস্থান নেয়, তখনই ঘটে চন্দ্রগ্রহণ। এই ভারতবর্ষেই বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম রাহু-কেতুর ধারণা ভেঙে দেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট। তাও প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে।
বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার রাত ১১টা ২৪ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। দেখা যাবে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত। ২০০০ সালের পর এটাই হবে সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। আর নাটকীয় এ ঘটনার সময় চাঁদ অন্তত ১০০ মিনিট ধারণ করে থাকবে রক্তিম বরণ। দেশের সব জায়গাতেই এ দৃশ্য দেখা যাবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পাবে ভারত, পূর্ব আফ্রিকার অর্ধেক, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ মহাজাগতিক এ ঘটনা দেখতে পাবে না। কারণ সেখানে চাঁদ উঠার সময় হওয়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে যাবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে তখন থাকবে দিন।
চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের যে কিরণ মহাশূন্যের দিকে যায়, সেই কিরণের কারণে চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লাল, বাদামি বা কালো রং ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এবার চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হতে পারে রক্তলাল।
ঢাকায় বিভিন্ন সংগঠন চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ক্যাম্প বসবে ধানমণ্ডি ক্লাব খেলার মাঠে। আগ্রহী যে কেউই রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এখানে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করবে বিজ্ঞানবিষয়ক সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র। এ ক্যাম্প আজ বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে সারা রাত চলবে। বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটাই হবে এ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। বছরের দ্বিতীয় গ্রহণটি হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। আগামীকাল হতে যাওয়া বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এ রকম ১০০ মিনিট স্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই আবার এ রকম গ্রহণ দেখা যাবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণে অনুসন্ধিৎসু চক্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার প্রাঙ্গণে খোলা হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প। দর্শনার্থীদের জন্য উমুক্ত এ ক্যাম্প বুধবার বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সারা রাত চলবে। ক্যাম্পটিতে অপটিক্যাল টেলিস্কোপ ছাড়াও রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া দেশের আরো ২০টি স্থানে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প খোলা হচ্ছে।
অনুসন্ধিৎসু চক্র বাংলাদেশের এই চন্দ্রগ্রহণের ভিডিও, ছবি ও তথ্য সরাসরি এই http://www.astronomylive.com ঠিকানারওয়েবসাইটে প্রচার করবে।











0 comments:
Post a Comment